অধ্যায় ত্রয়োদশ
একজন সফল পুরুষ যখন নিজের উত্থানের গল্প বলেন, তা সহজেই দীর্ঘ ও আবেগপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারা কিভাবে শূন্য থেকে শুরু করে, নিজের রক্ত-ঘাম আর শ্রমে প্রথম সাফল্য অর্জন করেছেন, কিভাবে কঠিন পরিবেশে নিরলস পরিশ্রম করে আজকের এই সম্মানিত, সুদর্শন রূপ পেয়েছেন—এ সবই বলতে পছন্দ করেন।
কিন্তু যারা ফেই ছির সঙ্গে পরিচিত, তারা জানেন, তিনি নিজের অতীত লুকান না ঠিকই, কিন্তু কখনোই সে প্রসঙ্গ তোলেন না।
বিস্তৃত অফিসটি যেন কোনো অভিজাত হোটেলের ভিআইপি স্যুট, চারপাশ উন্মুক্ত। বিশাল জানালা দিয়ে রোদ এসে পড়ছে, জানালার বাইরে শহরের বিখ্যাত ধান-চিংড়ির হ্রদ, হালকা বাতাসের ছোঁয়ায় হ্রদের ওপর সূর্যরশ্মি ঝিকিমিকি করে, যেন অসংখ্য হীরক খণ্ড ছড়ানো।
ফেই ছি স্থির হ্রদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আলো যেন তাকে বিশেষভাবে আলোকিত করছিল, তার নিখুঁত পাশ-প্রোফাইল ফুটে উঠেছিল, অথচ শক্ত হয়ে থাকা চোয়াল আর পাতলা ঠোঁটে নির্লিপ্ততা ও শীতলতা ফুটে উঠেছিল।
ছোটবেলায় মজা করে বলেছিল, এই জায়গাটাই অফিস হিসেবে ঠিক করবে; আজ সেটাই বাস্তব। শহরের ব্যবসায়ী মহলে যারাই কিছুটা সময় কাটিয়েছেন, তার উত্থান ও অতীত জানেন; তাদের অধিকাংশ এখনো তাকে অবজ্ঞা করেন, এটা তিনিও জানেন। কিন্তু তার কি আসে যায়! অর্থ ও ক্ষমতার সামনে তাদের মাথা নোয়াতেই হয়।
ড্রয়ারের ভেতর থেকে একটি ছবি বের করলেন, ছবিটি সামান্য হলুদ হয়ে গেছে। একজন কিশোরী, সাদা টি-শার্টে, মুখে চিরযৌবনা হাসি, ফেই ছির দৃষ্টি কিছুক্ষণ স্থির রইল ছবিতে।
আসলে তিনি প্রায়ই ছবিটি বের করে দেখেন না।
একবার এক পার্টিতে কেউ মজা করে জিজ্ঞেস করেছিল, ফেই ছি আসলে কিসে ভয় পান, কেউ কল্পনাও করতে পারে না। তিনি সবসময় দৃঢ় এবং কার্যকর, সিদ্ধান্তে অনড়, অনেকের কাছে তিনি যেন নরকের দূত, তাহলে তার ভয় কিসে?
তিনি সবচেয়ে ভয় পান স্মৃতিকে।
স্মৃতি দ্বিমুখী তরবারি, নিজেকে যেমন আহত করে, তেমনি অন্যকেও।
এই স্মৃতিই তাকে লু ছিয়ানের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভুলতে দেয় না; যদি সাফল্যও হারান, তাহলে তার কাছে মুখ দেখাবার মতো আর কিছু থাকবে না।
হঠাৎ দরজায় হালকা শব্দ, তিনি ছবিটি আবার ঠিকঠাক রেখে ড্রয়ার বন্ধ করলেন।
ঝাং, বিশেষ সহকারী, এসে দৈনন্দিন কিছু কথা বললেন, তারপর চশমা ঠিক করে বললেন, ‘‘আজকের রাতের ভোজ খুব গুরুত্বপূর্ণ, ডেং এবং চেন দুজনেই থাকবেন। আগেরবার ফেরত আসা টাকার বিষয়ে সমস্যা হয়েছে, ডেং-এর সেক্রেটারির ইঙ্গিত পরিষ্কার, তারা এবার ঝুঁকি নিতে চায়।’’
ফেই ছি মুচকি হাসলেন, চেয়ারে হেলে পড়লেন, ‘‘এই বুড়োদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।’’
‘‘তাদের দোষ নেই। লাভ হচ্ছে বলেই সবাই আসতে চাইছে, মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, এতে সুবিধা যেমন আছে, অসুবিধাও আছে,’’ ঝাং থেমে গিয়েছিলেন, ‘‘কিছুদিন আগে আপনি যে লোকটিকে খুঁজতে বলেছিলেন, খোঁজ বের হয়েছে।’’
তিনি ফাইলটি এগিয়ে দিলেন, ‘‘আর, ছিয়েন স্যার বাইরে আছেন।’’
‘‘তাকে ভেতরে আসতে বলো।’’ এবার তার মুখে প্রাণের ছাপ ফুটে উঠল।
‘‘তাহলে আমি যাচ্ছি,’’ ঝাং একটু ঝুঁকে নমস্কার করে চলে গেলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুরুষ প্রবেশ করলেন, তার পোশাক নব্বই দশকের মতো, বয়স আনুমানিক ত্রিশের কোঠায়। শীতের দিনে মুক্তিযোদ্ধার কোট গায়ে, লম্বা-চওড়া, মুখে গভীর কাটা দাগ, কাছে গেলে স্পষ্ট ছুরি-চাপাতির দাগ বলে মনে হয়, চোখ দুটি বাজপাখির মতো ঝলসে ওঠে।
ফেই ছিকে দেখে বিশাল দেহী সেই লোকটি হাসতে হাসতে বলল, ‘‘প্রতি বার তোমার এখানে এসে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে।’’
ফেই ছির প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষা না করেই সে বসে পড়ল, ‘‘বড় সুন্দর সাজানো।’’
‘‘বড় কোম্পানি হলে কিছুটা ছদ্মবেশ দরকার তো।’’
লোকটির মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল, ‘‘তুমি ‘সবকিছু সাদা করে ফেলো’ এই কথার মানে জানো তো?’’
ফেই ছি সিগারেট বাড়িয়ে দিলেন, নিজেও ধরালেন, হাসিমুখে, ‘‘আমি তো লিখতে পারি না।’’
লোকটি মুখে সিগারেট চেপে, গভীরভাবে তাকিয়ে বলল, ‘‘তোমার কোম্পানি এখন তালিকাভুক্ত, নামকরা মানুষ, ঠিকই টাকাটা সহজে আসে, কিন্তু সাবধান না হলে ডুবে যেতে দেরি নেই, আমার পরামর্শ, সময় থাকতেই ছেড়ে দাও।’’
‘‘আমি জানি, কতটুকু করা উচিত।’’
‘‘সেই মাল ভোরে ছেড়েছি, সকালে পৌঁছেছে, আমি নিজে দেখেছি,’’ গলা থেকে গরগর শব্দে বলল, ‘‘বিপদ কিছুটা ছিল, কিন্তু আমিও কম যোদ্ধা নই।’’
‘‘আ আও, তোমার কাজে আমার ভরসা আছে। আগের মতো, নগদ নেবে তো?’’
ছিয়েন আও হেসে বলল, ‘‘তুমি জানোই তো, আমি কার্ডে অভ্যস্ত না, নগদেই স্বস্তি।’’
এখনও সে পুরনো অভ্যাসে চলেন, টিভি দেখে, ইন্টারনেট পছন্দ নয়, নগদ নেয়, কার্ড নয়।
ফেই ছি বুঝতে পারলেন, ধোঁয়ার ছাই সাদা পাত্রে ফেলে বললেন, ‘‘তোমার কষ্টের কথা তো জানি, এখন সব তোমার ওপর। চাইলে কয়েকটা কাজ শেষ হলে আমার কোম্পানিতে যোগ দিতে পারো।’’
‘‘ছাড়ো, আমার হাতে এত কাটাছেঁড়া, অফিসে বসে কাজ আমার দ্বারা হবে না,’’ হাত দেখিয়ে হাসল, ‘‘তোমার ভাই বলে সাহায্য করি, আবার এ ছাড়া আমার গতি নেই। কিন্তু তোমার তো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, বেশি ঘাঁটলে একদিন আর বেরোতে পারবে না।’’
ফেই ছি ঠোঁট টেনে মজার ছলে, ‘‘আজ তো বেশ বক্তৃতা দিলে!’’
ছিয়েন আও নাক দিয়ে হেসে উঠল, ‘‘তিনদিন আগে সাতত্রিশে পা দিয়েছি, একটু জ্ঞান এসেছে মনে হয়।’’
ফেই ছি কিছুক্ষণ চুপ করে বললেন, ‘‘মালয়েশিয়ার বুড়োটার সঙ্গে চুক্তি শেষ হলেই আর করব না।’’
‘‘তুমি নয়—তুমি করবে না। আমার চয়েস নেই, অর্ধেক জীবন জলে কেটেছে, যত মাল ধরেছি, তার চেয়ে মেয়ে কম ধরেছি, আর কিছু পারি না; হয়তো পঞ্চাশে ছাড়ব।’’
উঠে দাঁড়াল, ‘‘আজ যদি এ পথে না আসতাম, আসতামই না। তোমার সঙ্গে বেশি সময় কাটালে তোমারই ক্ষতি।’’
ফেই ছি আটকাননি, তাদের মধ্যে বোঝাপড়া অনেক আগেই হয়েছে, সেই চলে যাওয়া দেখলেন।
শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত বন্ধু বলতে কেবল সে-ই আছে, এইসব বছরে ছিয়েন আও গোপনে তার জন্য অনেক কিছু করেছে। যখন বুড়ো গ্যাংস্টার থেকে বিদ্রোহ করেছিলেন, তখনও ছিয়েন আও-ই পাশে ছিল। আজ শুনে মনে পড়ে গেল, সময় কত দ্রুত চলে গেছে, সেই রক্ত-ঝরা যৌবনও কালো-সাদা স্মৃতি হয়ে গেছে।
শুরুতে তিনি বৈধভাবে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করতেন, নামেই ট্রেডিং কোম্পানি, আসলে পুরনো গ্যাংস্টার থেকে দখল নেওয়া ব্যবসা, সেই পুঁজি দিয়ে পরে জমি ব্যবসায়, সেখান থেকেই উত্থান। অনেকে বলে, তিনি অশিক্ষিত, তবে এই 'অশিক্ষিত বর্বর'ই সব দিক সামলে আজকের জায়গায় পৌঁছেছেন; এখন লোকে বলছে তিনি ব্যবসার জন্যই জন্মেছেন।
এ সময় থেকেই নারীরাও তার জীবনে আসতে শুরু করে।
কেউ কেউ লোভে পড়ে মেয়ে বা বোন পাঠায়, কেউ নিজের ইচ্ছায় আসে।
তিনি কাউকে ফিরিয়ে দেননি, তবে ত্রিশ পেরিয়েও বিয়ের কোনো ইচ্ছা দেখাননি।
এমন ধনবান অবিবাহিত পুরুষ সম্পর্কে বাজারে কোনো বাজে গুজব নেই, বরং আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন, সবাই নিজেকে সুযোগবান ভাবে।
মেজের ওপরের ফাইলটি খুললেন, কিন্তু অর্ধেক পড়ার পর হঠাৎ যেন কিছু মনে পড়ে, ফাইলটি বন্ধ করে রেখে দিলেন।
---
ওই দিন বিকেলে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসার সময় শেন ছি চিন বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি যেন কিছুক্ষণ ধরেই দাঁড়িয়ে, ঠোঁট ফ্যাকাশে।
তিনি অবাক হয়ে বললেন, কেন ভেতরে আসেননি। ছি চিন তার হাত স্পর্শ করল, তার হাত উষ্ণ।
‘‘তেমন ঠাণ্ডা নয়,’’ বলল, ‘‘চলো, আজ রাতে তোমাকে খাওয়াই।’’
‘‘বলেছিলাম না, আমি আজ খাওয়াবো! নতুন বছরের আগে বোনাস পেয়েছি।’’
‘‘বোনাসের খাওয়া তো আলাদা, আজ আর গা বাঁচিও না, চলো, তোমাকে দেখলে আমারই ঠাণ্ডা লাগে।’’
‘‘তুমি তো বললে ঠাণ্ডা লাগেনি!’’
‘‘এই শীতে তুমি এত হালকা পোশাকে, তুমি না কাঁপলে আমিও কাঁপব না?’’
---
দুজন মিলে কথা বলতে বলতে এক বারবিকিউ দোকানে গেলেন। শেন ছি চিন সাধারণত বারবিকিউ খেতে চায় না, কিন্তু এই সময়ে আর কোথাও যাওয়ার উপায় ছিল না, আর ওর খুব খেতে ইচ্ছে করছিল।
এ দোকানে নিজে বারবিকিউ করতে হয় না, বাইরে গ্রিলে বানিয়ে ভেতরে এনে দেয়। অলস ভঙ্গিতে বারবিকিউ খেতে খেতে সে বলল, ‘‘ভাজা পেঁয়াজ নেবে? শক্তি বাড়াবে নাকি, সঙ্গে ঝিনুকও আছে, কেমন?’’
সে মুখে কোনো ভাব প্রকাশ করল না, মেয়েটিও বুঝতে পেরে চুপ হয়ে গেল, ‘‘থাক, কিছু বলিনি ধরে নাও।’’
খাওয়া শেষ হলে ছি চিন বলল, ‘‘কয়েকদিন পর আমাকে বাইরে যেতে হবে।’’
‘‘কোথায়, কতদিন?’’ সে জানতে চাইল।
‘‘এক মাস, সুইজারল্যান্ড।’’ সে মৃদু হাসল, ‘‘তুমি চাইলে তো আর সঙ্গে যেতে পারবে না।’’
‘‘তোমার অনুপস্থিতিতে ভালোই থাকব আশা করি,’’ সে হালকা ছলে বলল, ‘‘আসলে তুমি শুধু স্কিইং করতে চাও, তাই না?’’
‘‘তুমি তো সবসময় খেলার কথা ভাবো।’’
কিছুক্ষণ নীরবতা। সে বলল, ‘‘আমি লু ছিয়ানের কাছে যেতে চাই।’’
শেন ছি চিনের চোখে জটিলতা, দেখলেন তার মুখ গরমে লাল, চোখে গভীর কিছু লুকানো, সে শান্ত দেখালেও, তার চোখে দোটানা ও ব্যথা ধরা পড়ে, ‘‘নতুন বছর আসছে, একবার দেখা করতে চাই।’’
শেন তার মাথায় হাত রাখল, এমন কোমল চুলের মেয়ের স্বভাব এত একগুঁয়ে কেন! কে জানে কি মোহে পড়ে গেছেন, তার রাগের পরও মনে মায়া জাগে।
‘‘চলো, আমি তোমার সঙ্গে যাব।’’ বলল সে।
ও তাকিয়ে বলল, ‘‘ভালো।’’
---
ড্রাইভার যখন ফেই ছির জন্য গাড়ির দরজা খুললেন, তিনি ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ডেকে তুললে তিনি কিছুক্ষণ হতবাক, তারপর গাড়ি থেকে নেমে এলেন।
‘‘তুমি চলে যাও।’’
‘‘ফেই স্যার, দরকার হলে ভেতরে পৌঁছে দিই?’’ ড্রাইভার তার অবস্থা দেখে চিন্তিত।
কিন্তু তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, ‘‘তুমি চলে যাও, সকালে গাড়ি নিয়ে এসো।’’
তার কথায় দৃঢ়তা ছিল, ড্রাইভার আর কিছু বলেননি।
আজ সত্যিই অনেক মদ্যপান হয়েছে, কখনো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ব্যবসায়ীদের চেয়েও বেশি পান করেন, পান করার সময় একের পর এক কৌশল, ইউনিফর্ম খুলে সবাই যেন আরও ভয়ঙ্কর। সবাই প্রচুর পান করলেও কেউ নিয়ন্ত্রণ হারায় না, বাড়ি ফেরার সময় কেবল মুখ লাল হয়ে ওঠে।
ফেই ছি সেই ধরনের, মদ্যপান করলেও মুখে কিছুই বোঝা যায় না, যতই পান করুন, যেন হালকা সুরা। বরং মুখ আরও ফ্যাকাশে।
তিনি নিজেকে সচেতন মনে করলেন, ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে উঠলেন, পা ছিল দৃঢ়, শুধু মাথা এতো ভারী আগে কখনো লাগেনি।
অন্য ঘর পেরিয়ে, একেবারে তার ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
খুব আস্তে দরজা খুললেন, ভেতরে উষ্ণতা আর সুগন্ধ, তার ঘ্রাণে ভরা, যেন কোনো সতেজ ফলের সুবাস, হয়তো শুকনো কমলার মতো।
গন্ধের উৎস ধরে তিনি বিছানার পাশে এলেন, নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না।
ঘরে গরম, সে পাতলা চাদর গায়ে, ছোট্ট একটা নাইটল্যাম্প জ্বলছে। উষ্ণ আলোয়, একফালি শুভ্র বাহু মুখ আড়াল করে রেখেছে, দুই পা কুঁকড়ে।
তিনি ছোটবেলার সেই গুটিসুটি বিড়ালের কথা মনে করলেন, যেমন সে একসময় কুড়িয়ে এনেছিল, মেয়েটি তাই, গুটিসুটি, শান্ত বিড়ালের মতো, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
চাদর সরিয়ে, এক ঝলকে বসন্তের রঙ, ঘুমের ভঙ্গিমায় তার পোশাক কোমরের ওপরে উঠে গেছে, সাদা ছোট প্যান্টিতে বিড়ালছানার ছবি আঁকা, কোমল কোমর পাশে হেলে, যেন আহ্বান জানায়—দেখে তার ইচ্ছে হল, দুই হাতে জড়িয়ে ধরতে পারে কিনা।
তিনি তাই করলেন, সে দুইবার ‘হুম’ শব্দ করল, কে জানে সুখে না কষ্টে।
তাপময় ছোঁয়া তার মাথা আরও ভারী করে দিল, সে তার শরীরে মাথা রাখলেন, তার শরীরের হালকা সুবাসে, কখন যে ঘুমিয়ে পড়লেন, টেরই পেলেন না।